এগিয়ে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়

শরীফুল আলম সুমন

দেশে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের যাত্রা শুরু হয় মাত্র ৩০ বছর আগে। শুরুতে হাতে গোনা কয়েকটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থাকলেও এখন তা পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিগুণ। তবে তিনটি অধিভুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় বাদে দেশে পাবলিক ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় সমান। সরকারি কোনো সুবিধা না নিয়েই মানের দিক দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে বেশ কিছু বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়। তাদের দৃষ্টিনন্দন ক্যাম্পাস, মানসম্পন্ন শিক্ষক, ল্যাবরেটরি, লাইব্রেরি সুবিধা ও নিয়মানুবর্তিতায় তারা অনেক পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়কেও পেছনে ফেলেছে। কর্মমুখী শিক্ষার কারণে দেশ-বিদেশের চাকরির বাজারেও দিন দিন এগিয়ে যাচ্ছেন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

সম্প্রতি যুক্তরাজ্যভিত্তিক প্রতিষ্ঠান টাইমস হায়ার এডুকেশন ‘ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি র‌্যাঙ্কিং ২০২৩’ প্রকাশ করেছে। সেখানে ৬০১ থেকে ৮০০-এর মধ্যে দেশের দুটি বিশ্ববিদ্যালয় স্থান করে নিয়েছে। এর একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় আর অন্যটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়। র‌্যাঙ্কিংয়ে থাকা বাংলাদেশের ১৫ বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ৮টিই বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়। দেশে এখন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা ৫৩টি। আর বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা ১০৯টি।

বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সদস্য অধ্যাপক ড. বিশ্বজিৎ চন্দ দেশ রূপান্তরকে বলেন, কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের চেয়ে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় এগিয়ে আছে। কারণ চাকরির বাজারে যেসব বিষয়ের চাহিদা আছে, সেগুলোই তারা চালু করছে। ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিকস ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই), কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই), ফার্মেসি থেকে শুরু করে রোবটিকসের মতো বিষয়গুলো তারা খুলেছে। স্কিলড ম্যানপাওয়ার তৈরিতে যেসব বিষয় কাজে লাগে, সেগুলোর অনুমোদনই তারা নিচ্ছে।

ড. বিশ্বজিৎ চন্দ আরও বলেন, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা কো-কারিকুলার এবং এক্সট্রা-কারিকুলারের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জন করছেন। বিভিন্ন ক্লাবের মাধ্যমে তারা কমিউনিকেশন ও নেটওয়ার্কিং স্কিল অর্জন করেন, যা তাদের চাকরির ক্ষেত্রে প্রয়োগ করতে পারেন। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্র্যাজুয়েটরা বেশ স্মার্ট হন। ইংরেজিতে কথা বলা থেকে শুরু করে তারা জানেন, কীভাবে নিজেকে উপস্থাপন করতে হয়। ফলে চাকরির বাজারে তারাই ডমিনেট করছেন।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, কর্মসংস্থানের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ বিষয়গুলো চালুর ক্ষেত্রে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের চেয়ে এগিয়ে আছে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়। কারণ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে কলা ও মানবিক বিভাগ বা সামাজিক বিজ্ঞানের মতো বিষয়গুলো বেশি। চাকরির বাজারে চাহিদা না থাকলেও বেশ কয়েকটি বিষয় চালু আছে। তবে নতুন নতুন বিষয় খোলা হলেও তা চলছে খুবই সীমিত পরিসরে। অন্যদিকে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো শুরুতেই চাকরির বাজারের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ বিষয়গুলোর অনুমোদন নিচ্ছে। বিশ্বের চাকরির বাজার যেদিকে যাচ্ছে বা নতুন যেসব বিষয় চালু হচ্ছে, তা দ্রুততার সঙ্গে খোলার চেষ্টা করছে তারা। একই সঙ্গে চাকরির বাজারের জন্য শিক্ষার্থীদের প্রস্তুত করতে নানা সহশিক্ষা কার্যক্রমও পরিচালনা করছে তারা। যেদিক দিয়ে পিছিয়ে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়। ফলে সহজেই চাকরির বাজার ঢুকতে পারছেন বেশ কিছু বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ভালো করলেও সব বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থা আবার এক নয়। বর্তমানে ১৫ থেকে ২০টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ভালো করছে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে মানসম্পন্ন শিক্ষক, অবকাঠামো, ল্যাবরেটরিসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা। তাদের শিক্ষার্থীরাই চাকরির বাজারে এগিয়ে আছেন। এ ছাড়া নতুন কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ও ভালো করার চেষ্টা করছে। এর বাইরে অন্যান্য বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থা নাজুক। সেগুলো নানা সমস্যায় জড়িত।

শিক্ষার্থীদের জন্য নেই ন্যূনতম সুযোগ-সুবিধা, নেই মানসম্পন্ন শিক্ষক। আবার কিছু বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে বড় ধরনের আর্থিক অনিয়মেরও অভিযোগ রয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) তথ্যেও দেখা যায়, চাকরির বাজারের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ বিষয়গুলোতে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাই বেশি। ২০২০ সালে অধিভুক্ত তিন বিশ্ববিদ্যালয় বাদে দেশে শিক্ষা কার্যক্রম চালু ছিল ৪৩টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের। সেখানে শিক্ষার্থী ছিলেন ৩ লাখ ১৪ হাজার ৯৩০ জন। এসব শিক্ষার্থীর মধ্যে কলা ও মানবিক বিভাগের বিষয়গুলোতে ৪৪ হাজার ১৩১, সামাজিক বিজ্ঞানে ৫১ হাজার ৩৩০, শিক্ষায় ৬ হাজার ৮৩৫, চারুকলায় ২ হাজার ৬২৮, বাণিজ্যে ৪৫ হাজার ২৭৫, আইনে ৮ হাজার ৪৫৭, ফার্মেসিতে ৯৯৪, বিজ্ঞানে ৪১ হাজার ৩৫৭, জীববিজ্ঞানে ২৩ হাজার ৪৪৯, চিকিৎসায় ৭ হাজার ৫৯, কৃষিতে ২০ হাজার ৮৫৮, প্রকৌশল ও কারিগরিতে ৫৩ হাজার ৮৪৭ এবং ডিপ্লোমা, সার্টিফিকেট ও অন্যান্য কোর্সে ৮ হাজার ৭১০ জন শিক্ষার্থী লেখাপড়া করছেন।

অন্যদিকে ২০২০ সালে ৯৬টি বেসরকারি বিশ^বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম চালু ছিল। সেখানে মোট শিক্ষার্থী ৩ লাখ ২৮ হাজার ৬৮৯ জন। এসব শিক্ষার্থীর মধ্যে কলা ও মানবিক বিভাগে ৩৫ হাজার ৩০৭, সামাজিক বিজ্ঞানে (অর্থনীতিসহ) ৯ হাজার ৬৮৫, শিক্ষায় ১ হাজার ৫১৬, চারুকলায় ৭৯৭, বিজ্ঞানে ২২ হাজার ৬১, জীববিজ্ঞানে ৩ হাজার ৭৬৫, ব্যবসায় প্রশাসনে ৭৮ হাজার ৬২৪, আইনে ২০ হাজার ৩২৫, ফার্মেসিতে ১১ হাজার ৬০৮, কৃষিবিজ্ঞানে ১ হাজার ৭৪৯, প্রকৌশল ও কারিগরিতে ১ লাখ ৩৮ হাজার ৩১২ এবং সার্টিফিকেট, ডিপ্লোমা, পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ডিপ্লোমা ও অন্যান্য কোর্সে ৪ হাজার ৯৪০ জন শিক্ষার্থী পড়ালেখা করেছেন।

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাপারে ইউজিসির বার্ষিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমানে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে চাহিদাভিত্তিক যুগোপযোগী বিষয় এবং পাঠ্যক্রম প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করা হচ্ছে; বিশেষ করে ল্যাবরেটরি সায়েন্স, ইলেকট্রনিকস অ্যান্ড টেলিকমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং, কম্পিউটার অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেম, মেকাট্রনিকস ইঞ্জিনিয়ারিং, তথ্য ও যোগাযোগ (আইসিটি), ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট, গ্রাফিকস ডিজাইন এবং পারফর্মিং আর্টসের মতো বিষয়গুলো চালু করা হয়েছে। বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার জন্য সহায়ক হবে বলে আশা করা যায়।

নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আতিকুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমাদের ইউনিভার্সিটি থেকে পাস করা গ্র্যাজুয়েটরা বিশ্বের স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয়, যেমন হার্ভার্ড, স্ট্যানফোর্ড, অক্সফোর্ড, কেমব্রিজ ইত্যাদি বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণা ও উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করছে। বহুজাতিক কোম্পানি, যেমন নাসা, গুগল, মাইক্রোসফট, বিশ্বব্যাংক ইত্যাদি সংস্থার উচ্চতর পদে চাকরিরত আছে। এ ছাড়া আমাদের গ্র্যাজুয়েটরা অনেকে স্টার্টআপ, যেমন পাঠাও, চালডাল, সাটেলসহ আরও অনেক সফল কোম্পানির উদ্যোক্তা হিসেবে মেধার স্বাক্ষর রেখে দেশের অর্থনীতির উন্নয়নে এবং কর্মসংস্থান তৈরিতে ভূমিকা রাখছে।’

এগিয়ে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়

শরীফুল আলম সুমন

দেশে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের যাত্রা শুরু হয় মাত্র ৩০ বছর আগে। শুরুতে হাতে গোনা কয়েকটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থাকলেও এখন তা পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিগুণ। তবে তিনটি অধিভুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় বাদে দেশে পাবলিক ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় সমান। সরকারি কোনো সুবিধা না নিয়েই মানের দিক দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে বেশ কিছু বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়। তাদের দৃষ্টিনন্দন ক্যাম্পাস, মানসম্পন্ন শিক্ষক, ল্যাবরেটরি, লাইব্রেরি সুবিধা ও নিয়মানুবর্তিতায় তারা অনেক পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়কেও পেছনে ফেলেছে। কর্মমুখী শিক্ষার কারণে দেশ-বিদেশের চাকরির বাজারেও দিন দিন এগিয়ে যাচ্ছেন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

সম্প্রতি যুক্তরাজ্যভিত্তিক প্রতিষ্ঠান টাইমস হায়ার এডুকেশন ‘ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি র‌্যাঙ্কিং ২০২৩’ প্রকাশ করেছে। সেখানে ৬০১ থেকে ৮০০-এর মধ্যে দেশের দুটি বিশ্ববিদ্যালয় স্থান করে নিয়েছে। এর একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় আর অন্যটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়। র‌্যাঙ্কিংয়ে থাকা বাংলাদেশের ১৫ বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ৮টিই বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়। দেশে এখন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা ৫৩টি। আর বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা ১০৯টি।

বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সদস্য অধ্যাপক ড. বিশ্বজিৎ চন্দ দেশ রূপান্তরকে বলেন, কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের চেয়ে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় এগিয়ে আছে। কারণ চাকরির বাজারে যেসব বিষয়ের চাহিদা আছে, সেগুলোই তারা চালু করছে। ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিকস ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই), কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই), ফার্মেসি থেকে শুরু করে রোবটিকসের মতো বিষয়গুলো তারা খুলেছে। স্কিলড ম্যানপাওয়ার তৈরিতে যেসব বিষয় কাজে লাগে, সেগুলোর অনুমোদনই তারা নিচ্ছে।

ড. বিশ্বজিৎ চন্দ আরও বলেন, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা কো-কারিকুলার এবং এক্সট্রা-কারিকুলারের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জন করছেন। বিভিন্ন ক্লাবের মাধ্যমে তারা কমিউনিকেশন ও নেটওয়ার্কিং স্কিল অর্জন করেন, যা তাদের চাকরির ক্ষেত্রে প্রয়োগ করতে পারেন। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্র্যাজুয়েটরা বেশ স্মার্ট হন। ইংরেজিতে কথা বলা থেকে শুরু করে তারা জানেন, কীভাবে নিজেকে উপস্থাপন করতে হয়। ফলে চাকরির বাজারে তারাই ডমিনেট করছেন।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, কর্মসংস্থানের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ বিষয়গুলো চালুর ক্ষেত্রে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের চেয়ে এগিয়ে আছে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়। কারণ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে কলা ও মানবিক বিভাগ বা সামাজিক বিজ্ঞানের মতো বিষয়গুলো বেশি। চাকরির বাজারে চাহিদা না থাকলেও বেশ কয়েকটি বিষয় চালু আছে। তবে নতুন নতুন বিষয় খোলা হলেও তা চলছে খুবই সীমিত পরিসরে। অন্যদিকে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো শুরুতেই চাকরির বাজারের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ বিষয়গুলোর অনুমোদন নিচ্ছে। বিশ্বের চাকরির বাজার যেদিকে যাচ্ছে বা নতুন যেসব বিষয় চালু হচ্ছে, তা দ্রুততার সঙ্গে খোলার চেষ্টা করছে তারা। একই সঙ্গে চাকরির বাজারের জন্য শিক্ষার্থীদের প্রস্তুত করতে নানা সহশিক্ষা কার্যক্রমও পরিচালনা করছে তারা। যেদিক দিয়ে পিছিয়ে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়। ফলে সহজেই চাকরির বাজার ঢুকতে পারছেন বেশ কিছু বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ভালো করলেও সব বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থা আবার এক নয়। বর্তমানে ১৫ থেকে ২০টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ভালো করছে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে মানসম্পন্ন শিক্ষক, অবকাঠামো, ল্যাবরেটরিসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা। তাদের শিক্ষার্থীরাই চাকরির বাজারে এগিয়ে আছেন। এ ছাড়া নতুন কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ও ভালো করার চেষ্টা করছে। এর বাইরে অন্যান্য বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থা নাজুক। সেগুলো নানা সমস্যায় জড়িত।

শিক্ষার্থীদের জন্য নেই ন্যূনতম সুযোগ-সুবিধা, নেই মানসম্পন্ন শিক্ষক। আবার কিছু বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে বড় ধরনের আর্থিক অনিয়মেরও অভিযোগ রয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) তথ্যেও দেখা যায়, চাকরির বাজারের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ বিষয়গুলোতে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাই বেশি। ২০২০ সালে অধিভুক্ত তিন বিশ্ববিদ্যালয় বাদে দেশে শিক্ষা কার্যক্রম চালু ছিল ৪৩টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের। সেখানে শিক্ষার্থী ছিলেন ৩ লাখ ১৪ হাজার ৯৩০ জন। এসব শিক্ষার্থীর মধ্যে কলা ও মানবিক বিভাগের বিষয়গুলোতে ৪৪ হাজার ১৩১, সামাজিক বিজ্ঞানে ৫১ হাজার ৩৩০, শিক্ষায় ৬ হাজার ৮৩৫, চারুকলায় ২ হাজার ৬২৮, বাণিজ্যে ৪৫ হাজার ২৭৫, আইনে ৮ হাজার ৪৫৭, ফার্মেসিতে ৯৯৪, বিজ্ঞানে ৪১ হাজার ৩৫৭, জীববিজ্ঞানে ২৩ হাজার ৪৪৯, চিকিৎসায় ৭ হাজার ৫৯, কৃষিতে ২০ হাজার ৮৫৮, প্রকৌশল ও কারিগরিতে ৫৩ হাজার ৮৪৭ এবং ডিপ্লোমা, সার্টিফিকেট ও অন্যান্য কোর্সে ৮ হাজার ৭১০ জন শিক্ষার্থী লেখাপড়া করছেন।

অন্যদিকে ২০২০ সালে ৯৬টি বেসরকারি বিশ^বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম চালু ছিল। সেখানে মোট শিক্ষার্থী ৩ লাখ ২৮ হাজার ৬৮৯ জন। এসব শিক্ষার্থীর মধ্যে কলা ও মানবিক বিভাগে ৩৫ হাজার ৩০৭, সামাজিক বিজ্ঞানে (অর্থনীতিসহ) ৯ হাজার ৬৮৫, শিক্ষায় ১ হাজার ৫১৬, চারুকলায় ৭৯৭, বিজ্ঞানে ২২ হাজার ৬১, জীববিজ্ঞানে ৩ হাজার ৭৬৫, ব্যবসায় প্রশাসনে ৭৮ হাজার ৬২৪, আইনে ২০ হাজার ৩২৫, ফার্মেসিতে ১১ হাজার ৬০৮, কৃষিবিজ্ঞানে ১ হাজার ৭৪৯, প্রকৌশল ও কারিগরিতে ১ লাখ ৩৮ হাজার ৩১২ এবং সার্টিফিকেট, ডিপ্লোমা, পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ডিপ্লোমা ও অন্যান্য কোর্সে ৪ হাজার ৯৪০ জন শিক্ষার্থী পড়ালেখা করেছেন।

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাপারে ইউজিসির বার্ষিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমানে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে চাহিদাভিত্তিক যুগোপযোগী বিষয় এবং পাঠ্যক্রম প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করা হচ্ছে; বিশেষ করে ল্যাবরেটরি সায়েন্স, ইলেকট্রনিকস অ্যান্ড টেলিকমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং, কম্পিউটার অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেম, মেকাট্রনিকস ইঞ্জিনিয়ারিং, তথ্য ও যোগাযোগ (আইসিটি), ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট, গ্রাফিকস ডিজাইন এবং পারফর্মিং আর্টসের মতো বিষয়গুলো চালু করা হয়েছে। বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার জন্য সহায়ক হবে বলে আশা করা যায়।

নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আতিকুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমাদের ইউনিভার্সিটি থেকে পাস করা গ্র্যাজুয়েটরা বিশ্বের স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয়, যেমন হার্ভার্ড, স্ট্যানফোর্ড, অক্সফোর্ড, কেমব্রিজ ইত্যাদি বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণা ও উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করছে। বহুজাতিক কোম্পানি, যেমন নাসা, গুগল, মাইক্রোসফট, বিশ্বব্যাংক ইত্যাদি সংস্থার উচ্চতর পদে চাকরিরত আছে। এ ছাড়া আমাদের গ্র্যাজুয়েটরা অনেকে স্টার্টআপ, যেমন পাঠাও, চালডাল, সাটেলসহ আরও অনেক সফল কোম্পানির উদ্যোক্তা হিসেবে মেধার স্বাক্ষর রেখে দেশের অর্থনীতির উন্নয়নে এবং কর্মসংস্থান তৈরিতে ভূমিকা রাখছে।’