ঢাবির সড়কে আতঙ্কে থাকে শিক্ষার্থীরা

ইমন রহমান

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ক্যাম্পাসে এক নারীকে প্রাইভেট কারের ধাক্কা দিয়ে ফেলে এক কিলোমিটার পর্যন্ত টেনে নিয়ে যাওয়ার পর ফের আলোচনায় এসেছে ক্যাম্পাসের অনিরাপদ সড়কের বিষয়টি। গত শুক্রবারের ওই ঘটনার পর অনেকের মতোই তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের রোকেয়া হলের শিক্ষার্থী তাসনিয়া জামান স্বর্ণা সেদিন বিকেলে তার ফেইসবুক স্ট্যাটাসে লিখেছেন, ‘রাজারবাগ পুলিশ লাইনে টিউশন করাতে যাই। ওখান থেকে শাহবাগ আসতে যতটা নিজেকে নিরাপদ মনে হয় তার থেকে বেশি অনিরাপদ মনে হয় শাহবাগ থেকে হলে ফিরতে। আর লাইব্রেরি গেট থেকে রোকেয়া হলের রাস্তা পারাপারের সময় জীবনটা কোনো মতে দোয়া দরুদ পড়িয়ে বাঁচিয়ে রাখি। এ হলো প্রাচ্যের অক্সফোর্ডখ্যাত বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থা।’

স্বর্ণার মতন অন্য শিক্ষার্থীরাও ঢাবি ক্যাম্পাসে বেপরোয়া যানবাহন চলাচলের বিষয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছেন। শুক্রবারের দুর্ঘটনার পর শিক্ষার্থীরা তাৎক্ষণিক উপাচার্যের বাসভবনের সামনে জড়ো হয়ে প্রতিবাদও জানিয়েছেন।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ঢাবির সড়কে বেপরোয়াভাবে গাড়ি চলাচল করে। হল থেকে বের হলেই ভয়ে থাকেন তারা। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এ বিষয়ে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেয় না।

ঢাবির জিয়াউর রহমান হলের শিক্ষার্থী মো. হাসান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘হল থেকে বের হওয়ার পর মনে হয় না বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আছি। সড়কে যত্রতত্র বেপরোয়া গাড়ি চলায় সবসময় আতঙ্কের মধ্যে থাকতে হয়। রাতের রেলা ট্রাক, লরি, তেলবাহী ট্রাক ও বাস বেপরোয়াভাবে চলাচল করে। যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণ না করলে ঢাবি ক্যাম্পাসে আরও বড় দুর্ঘটনা ঘটবে।’

ক্যাম্পাসের অনিরাপদ সড়কের বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাবির প্রক্টর এ কে এম গোলাম রাব্বানী গতকাল শনিবার দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শহরের কেন্দ্রভূমিতে অবস্থিত। আমাদের সবাইকে মিলেই নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হয়। যার যার অবস্থান থেকে যদি সহযোগিতা করি, দায়িত্বহীনভাবে যেন গাড়ি না চালাই, লাইসেন্সবিহীন গাড়ি না চালাই, যেমন খুশি তেমন করে হোন্ডা না চালাই তাহলেই কেবল ঢাবির সড়ক নিরাপদ করা সম্ভব। এরপরও দুর্ঘটনা ১০০ ভাগ বন্ধ করা হয়তো সম্ভব হবে না, তবে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।’

তিনি আরও বলেন, ‘এসব যানবাহন বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো অনুমতি নিয়ে চলে না। উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্যেকটি গেট ওপেন আছে। এই গেটগুলোকে তারা যেন ভালোভাবে ব্যবহার করে, অপব্যবহার না করে।’

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের করণীয় বিষয়ে জানতে চাইলে প্রক্টর বলেন, ‘সড়কের নিরাপত্তার জন্য আমরাও কাজ করছি। বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো কঠোর অবস্থান নেওয়ার সুযোগ নেই। যে সংস্থার কাছে যে সহযোগিতা দরকার আমরা চেয়েছি। সকলকে অবহিত করা হয়েছে। সবদিক থেকে সহযোগিতা এলে এগুলো অনেকটা কমে আসবে।’

সরেজমিনে দেখা গেছে, ঢাবিতে রয়েছে সব শ্রেণির মানুষের অবাধ যাতায়াত। ক্যাম্পাসের ছয়টি প্রবেশপথের সবই উন্মুক্ত। সেখান দিয়ে কেবল সাধারণ লোকজনই নয়, অবাধে চলাচল করছে সবধরনের যানবাহন। রাতে যাত্রীবাহী বাস, মিনিবাসসহ মালবাহী ট্রাক-লরিগুলো ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরীণ সড়ক ব্যবহার করছে। এসব দেখে বোঝার উপায় নেই যে, এটা কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের সড়ক। ফলে ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের চলাফেরা করা হয়ে উঠেছে অনেকটা ঝুঁকিপূর্ণ। মাঝেমধ্যেই ঘটছে দুর্ঘটনা।

ক্যাম্পাসে দীর্ঘদিন কাজ করছেন এমন কর্মচারীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, একসময় ক্যাম্পাসে যান চলাচল নিষিদ্ধ না থাকলেও সংরক্ষিত ছিল। প্রবেশমুখগুলোতে ছিল উচ্চতা বার। যেখানে স্পষ্ট ভাষায় লেখা ছিল, যাত্রীবাহী বাস, মিনিবাস, ট্রাক-লরি প্রবেশ নিষেধ। লেখা ছিল, সর্বোচ্চ গতিসীমাও। তা ছাড়া লোহার তৈরি উচ্চতা বারগুলো এমনভাবে ছিল, যেখান দিয়ে চাইলেও বড় ধরনের যানবাহন ঢুকতে পারত না। কিন্তু এখন শুধু শহীদুল্লাহ হলের সামনে চানখারপুলসংলগ্ন সড়কে একটি উচ্চতা বার রয়েছে। অন্যগুলো উধাও। কেন কীভাবে উধাও হলো তার কোনো জবাব নেই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে।

গত শুক্রবার রাত ১১টার দিকে ঢাবির ছাত্র শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি) এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে জনাকীর্ণ। সেখানকার চায়ের দোকানিরা বলছেন, বিকেলের পর থেকে বসে আড্ডা। সন্ধ্যার পর শহরের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা লোকজনের পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে পুরো টিএসসি চত্বর।

রাজধানীর মিরপুর থেকে বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দিতে আসা রাকিব হাসান বলেন, সন্ত্রাসবিরোধী রাজু ভাস্কর্য বা সড়কদ্বীপের মতো জায়গায় মুক্তভাবে আড্ডা দেওয়ার পরিবেশ এখন অনেকটাই হারিয়ে গেছে। মেট্রোরেল নির্মাণের কাজ চলায় এমনিতেই সড়ক সংকীর্ণ হয়ে পড়েছে। এর ওপর অসংখ্য যানবাহন চলাচলে হাঁটার মতন অবস্থা থাকে না সড়কটিতে। শাহবাগ থেকে শুরু করে টিএসসি হয়ে সে জট গিয়ে ঠেকে দোয়েল চত্বর পর্যন্ত। ফলে পা ফেলার জায়গা থাকছে না ক্যাম্পাসের মূল সড়কগুলোতেও।

শিক্ষার্থী ও ঘুরতে আসা অনেকে বলছেন, যানবাহনের গতি বেশি থাকায় ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরীণ সড়কে পারাপারও অনেকটা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ফুলার রোডের প্রশস্ত রাস্তা পুরান ঢাকার বাইকারদের ‘বাইক রেস’র জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। দলবেঁধে এসে সর্বোচ্চ গতিতে এ রাস্তায় বাইক চালানো তাদের নিত্যদিনের রুটিনে পরিণত হয়েছে। রাত ১০টার পরে শাহবাগ, নীলক্ষেত মোড়, পলাশীর মোড়সহ প্রায় প্রতিটি বড় প্রবেশমুখ দিয়েই ঢুকে পড়ছে মালবাহী ট্রাক-লরি। ফলে রাতের বেলায়ও ক্যাম্পাসের রাস্তায় চলাচল করা অনেকটা অনিরাপদ হয়ে উঠেছে।

নারীকে প্রাইভেট কারে চাপা দেওয়া ঢাবির সাবেক শিক্ষক চিকিৎসাধীন অবস্থায় গ্রেপ্তার: ঢাবিতে প্রাইভেট কারের চাপায় রুবিনা আক্তার (৪৫) নিহতের ঘটনায় শুক্রবার রাতে শাহবাগ থানায় মামলা হয়েছে। নিহতের ভাই জাকির হোসেন বাদী হয়ে মামলা করেন। ওই মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছেন চাপা দেওয়া প্রাইভেট কারটির চালক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের (আইআর) সাবেক সহযোগী অধ্যাপক এম এম ডি আযাহার জাফর শাহ (৪৮)। তবে তিনি দুর্ঘটনার সময় গণধোলাইয়ের শিকার হওয়ায় পুলিশি পাহারায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।

এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) রমনা বিভাগের সহকারী কমিশনার (এসি) বায়েজিদুর রহমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘নিহতের ভাইয়ের করা মামলায় প্রাইভেট কার চালককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে তিনি অসুস্থ হওয়ায় মেডিকেলে আছেন। সুস্থ হলে তাকে আদালতে উপস্থাপন করা হবে।’

প্রাইভেট কারের চালকের ড্রাইভিং লাইসেন্স ছিল কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সে গুরুতর অসুস্থ হওয়ায় জিজ্ঞাসাবাদ করা সম্ভব হয়নি।’

গত শুক্রবার বিকেলে শাহবাগসংলগ্ন ঢাবি চারুকলা অনুষদের উল্টো পাশের সড়কে দুর্ঘটনার শিকার হন মোটরসাইকেল আরোহী রুবিনা আক্তার (৪৫)। প্রাইভেট কারটির চালক তাকে টেনে এক কিলোমিটার পথ নিয়ে যায়। নিহত রুবিনার ময়না তদন্ত শেষে গতকাল সন্ধ্যায় আজিমপুর কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।

ঢাবির সড়কে আতঙ্কে থাকে শিক্ষার্থীরা

ইমন রহমান

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ক্যাম্পাসে এক নারীকে প্রাইভেট কারের ধাক্কা দিয়ে ফেলে এক কিলোমিটার পর্যন্ত টেনে নিয়ে যাওয়ার পর ফের আলোচনায় এসেছে ক্যাম্পাসের অনিরাপদ সড়কের বিষয়টি। গত শুক্রবারের ওই ঘটনার পর অনেকের মতোই তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের রোকেয়া হলের শিক্ষার্থী তাসনিয়া জামান স্বর্ণা সেদিন বিকেলে তার ফেইসবুক স্ট্যাটাসে লিখেছেন, ‘রাজারবাগ পুলিশ লাইনে টিউশন করাতে যাই। ওখান থেকে শাহবাগ আসতে যতটা নিজেকে নিরাপদ মনে হয় তার থেকে বেশি অনিরাপদ মনে হয় শাহবাগ থেকে হলে ফিরতে। আর লাইব্রেরি গেট থেকে রোকেয়া হলের রাস্তা পারাপারের সময় জীবনটা কোনো মতে দোয়া দরুদ পড়িয়ে বাঁচিয়ে রাখি। এ হলো প্রাচ্যের অক্সফোর্ডখ্যাত বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থা।’

স্বর্ণার মতন অন্য শিক্ষার্থীরাও ঢাবি ক্যাম্পাসে বেপরোয়া যানবাহন চলাচলের বিষয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছেন। শুক্রবারের দুর্ঘটনার পর শিক্ষার্থীরা তাৎক্ষণিক উপাচার্যের বাসভবনের সামনে জড়ো হয়ে প্রতিবাদও জানিয়েছেন।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ঢাবির সড়কে বেপরোয়াভাবে গাড়ি চলাচল করে। হল থেকে বের হলেই ভয়ে থাকেন তারা। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এ বিষয়ে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেয় না।

ঢাবির জিয়াউর রহমান হলের শিক্ষার্থী মো. হাসান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘হল থেকে বের হওয়ার পর মনে হয় না বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আছি। সড়কে যত্রতত্র বেপরোয়া গাড়ি চলায় সবসময় আতঙ্কের মধ্যে থাকতে হয়। রাতের রেলা ট্রাক, লরি, তেলবাহী ট্রাক ও বাস বেপরোয়াভাবে চলাচল করে। যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণ না করলে ঢাবি ক্যাম্পাসে আরও বড় দুর্ঘটনা ঘটবে।’

ক্যাম্পাসের অনিরাপদ সড়কের বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাবির প্রক্টর এ কে এম গোলাম রাব্বানী গতকাল শনিবার দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শহরের কেন্দ্রভূমিতে অবস্থিত। আমাদের সবাইকে মিলেই নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হয়। যার যার অবস্থান থেকে যদি সহযোগিতা করি, দায়িত্বহীনভাবে যেন গাড়ি না চালাই, লাইসেন্সবিহীন গাড়ি না চালাই, যেমন খুশি তেমন করে হোন্ডা না চালাই তাহলেই কেবল ঢাবির সড়ক নিরাপদ করা সম্ভব। এরপরও দুর্ঘটনা ১০০ ভাগ বন্ধ করা হয়তো সম্ভব হবে না, তবে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।’

তিনি আরও বলেন, ‘এসব যানবাহন বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো অনুমতি নিয়ে চলে না। উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্যেকটি গেট ওপেন আছে। এই গেটগুলোকে তারা যেন ভালোভাবে ব্যবহার করে, অপব্যবহার না করে।’

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের করণীয় বিষয়ে জানতে চাইলে প্রক্টর বলেন, ‘সড়কের নিরাপত্তার জন্য আমরাও কাজ করছি। বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো কঠোর অবস্থান নেওয়ার সুযোগ নেই। যে সংস্থার কাছে যে সহযোগিতা দরকার আমরা চেয়েছি। সকলকে অবহিত করা হয়েছে। সবদিক থেকে সহযোগিতা এলে এগুলো অনেকটা কমে আসবে।’

সরেজমিনে দেখা গেছে, ঢাবিতে রয়েছে সব শ্রেণির মানুষের অবাধ যাতায়াত। ক্যাম্পাসের ছয়টি প্রবেশপথের সবই উন্মুক্ত। সেখান দিয়ে কেবল সাধারণ লোকজনই নয়, অবাধে চলাচল করছে সবধরনের যানবাহন। রাতে যাত্রীবাহী বাস, মিনিবাসসহ মালবাহী ট্রাক-লরিগুলো ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরীণ সড়ক ব্যবহার করছে। এসব দেখে বোঝার উপায় নেই যে, এটা কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের সড়ক। ফলে ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের চলাফেরা করা হয়ে উঠেছে অনেকটা ঝুঁকিপূর্ণ। মাঝেমধ্যেই ঘটছে দুর্ঘটনা।

ক্যাম্পাসে দীর্ঘদিন কাজ করছেন এমন কর্মচারীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, একসময় ক্যাম্পাসে যান চলাচল নিষিদ্ধ না থাকলেও সংরক্ষিত ছিল। প্রবেশমুখগুলোতে ছিল উচ্চতা বার। যেখানে স্পষ্ট ভাষায় লেখা ছিল, যাত্রীবাহী বাস, মিনিবাস, ট্রাক-লরি প্রবেশ নিষেধ। লেখা ছিল, সর্বোচ্চ গতিসীমাও। তা ছাড়া লোহার তৈরি উচ্চতা বারগুলো এমনভাবে ছিল, যেখান দিয়ে চাইলেও বড় ধরনের যানবাহন ঢুকতে পারত না। কিন্তু এখন শুধু শহীদুল্লাহ হলের সামনে চানখারপুলসংলগ্ন সড়কে একটি উচ্চতা বার রয়েছে। অন্যগুলো উধাও। কেন কীভাবে উধাও হলো তার কোনো জবাব নেই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে।

গত শুক্রবার রাত ১১টার দিকে ঢাবির ছাত্র শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি) এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে জনাকীর্ণ। সেখানকার চায়ের দোকানিরা বলছেন, বিকেলের পর থেকে বসে আড্ডা। সন্ধ্যার পর শহরের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা লোকজনের পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে পুরো টিএসসি চত্বর।

রাজধানীর মিরপুর থেকে বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দিতে আসা রাকিব হাসান বলেন, সন্ত্রাসবিরোধী রাজু ভাস্কর্য বা সড়কদ্বীপের মতো জায়গায় মুক্তভাবে আড্ডা দেওয়ার পরিবেশ এখন অনেকটাই হারিয়ে গেছে। মেট্রোরেল নির্মাণের কাজ চলায় এমনিতেই সড়ক সংকীর্ণ হয়ে পড়েছে। এর ওপর অসংখ্য যানবাহন চলাচলে হাঁটার মতন অবস্থা থাকে না সড়কটিতে। শাহবাগ থেকে শুরু করে টিএসসি হয়ে সে জট গিয়ে ঠেকে দোয়েল চত্বর পর্যন্ত। ফলে পা ফেলার জায়গা থাকছে না ক্যাম্পাসের মূল সড়কগুলোতেও।

শিক্ষার্থী ও ঘুরতে আসা অনেকে বলছেন, যানবাহনের গতি বেশি থাকায় ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরীণ সড়কে পারাপারও অনেকটা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ফুলার রোডের প্রশস্ত রাস্তা পুরান ঢাকার বাইকারদের ‘বাইক রেস’র জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। দলবেঁধে এসে সর্বোচ্চ গতিতে এ রাস্তায় বাইক চালানো তাদের নিত্যদিনের রুটিনে পরিণত হয়েছে। রাত ১০টার পরে শাহবাগ, নীলক্ষেত মোড়, পলাশীর মোড়সহ প্রায় প্রতিটি বড় প্রবেশমুখ দিয়েই ঢুকে পড়ছে মালবাহী ট্রাক-লরি। ফলে রাতের বেলায়ও ক্যাম্পাসের রাস্তায় চলাচল করা অনেকটা অনিরাপদ হয়ে উঠেছে।

নারীকে প্রাইভেট কারে চাপা দেওয়া ঢাবির সাবেক শিক্ষক চিকিৎসাধীন অবস্থায় গ্রেপ্তার: ঢাবিতে প্রাইভেট কারের চাপায় রুবিনা আক্তার (৪৫) নিহতের ঘটনায় শুক্রবার রাতে শাহবাগ থানায় মামলা হয়েছে। নিহতের ভাই জাকির হোসেন বাদী হয়ে মামলা করেন। ওই মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছেন চাপা দেওয়া প্রাইভেট কারটির চালক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের (আইআর) সাবেক সহযোগী অধ্যাপক এম এম ডি আযাহার জাফর শাহ (৪৮)। তবে তিনি দুর্ঘটনার সময় গণধোলাইয়ের শিকার হওয়ায় পুলিশি পাহারায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।

এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) রমনা বিভাগের সহকারী কমিশনার (এসি) বায়েজিদুর রহমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘নিহতের ভাইয়ের করা মামলায় প্রাইভেট কার চালককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে তিনি অসুস্থ হওয়ায় মেডিকেলে আছেন। সুস্থ হলে তাকে আদালতে উপস্থাপন করা হবে।’

প্রাইভেট কারের চালকের ড্রাইভিং লাইসেন্স ছিল কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সে গুরুতর অসুস্থ হওয়ায় জিজ্ঞাসাবাদ করা সম্ভব হয়নি।’

গত শুক্রবার বিকেলে শাহবাগসংলগ্ন ঢাবি চারুকলা অনুষদের উল্টো পাশের সড়কে দুর্ঘটনার শিকার হন মোটরসাইকেল আরোহী রুবিনা আক্তার (৪৫)। প্রাইভেট কারটির চালক তাকে টেনে এক কিলোমিটার পথ নিয়ে যায়। নিহত রুবিনার ময়না তদন্ত শেষে গতকাল সন্ধ্যায় আজিমপুর কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।