বিসিএসের নিয়োগ প্রক্রিয়া ছয় মাসে সম্পন্ন করা উচিত

ছবি: সংগৃহীত

সরকারের গুরুত্বপূর্ণ পদগুলো বেশি ফাঁকা থাকলে অবশ্যই সেবা দিতে অসুবিধা তৈরি হয়। তবে কত শতাংশ পদ খালি আছে সেটা দেখতে হবে। স্বাভাবিকভাবে কিছু পদ সংরক্ষণ করা হয় কেউ প্রশিক্ষণে যাবে, অসুস্থ হবে এসব বিষয় মাথায় রেখে। তবে ১০ শতাংশের বেশি পদ ফাঁকা থাকলে কাজে অসুবিধা হয়, এটা থাকা মোটেও উচিত নয়।

বিসিএসের নিয়োগ প্রক্রিয়া ছয় মাসের মধ্যে সম্পন্ন উচিত। প্রয়োজনে এটিকে ইলেকট্রনিক করা উচিত। পরীক্ষার একটা বড় অংশ অনলাইনে নিতে হবে। অনলাইন পরীক্ষার মাধ্যমে প্রার্থী বাছাই করে নিয়ে অল্পসংখ্যক প্রার্থীর সশরীরে পরীক্ষা নিতে হবে। এর পাশাপাশি একই প্রার্থীকে দুই বারের বেশি পরীক্ষায় অংশ নিতে দেয়া উচিত নয়। প্রথমবার অংশ নিয়ে হয়তো অনেকে শারীরিক অসুস্থতা, যাতায়াতের অসুবিধা বা পদ্ধতি বুঝতে না পারায় চাকরি নাও পেতে পারে। কিন্তু চার-পাঁচবার পরীক্ষায় অংশ নিতে দিলে তারা বুঝে ফেলে কোন ধরনের প্রশ্নপত্র পরীক্ষায় আসে। সে কারণে সব চাকরির পরীক্ষায় দুই বারের বেশি সুযোগ দেয়া ঠিক না। এতে করে বাছাইটা ভালো হয়। মেধাবীরা সুযোগ পায়। আবার আমাদের তো প্রশ্নপত্র প্রণয়নের বিশেষজ্ঞেরও অভাব রয়েছে। সেনাবাহিনীতে যেভাবে নেয়া হয় সেভাবে চাকরিপ্রার্থীদের মানসিক পরীক্ষা নেয়া উচিত।

আমি মনে করি, অনলাইনে পরীক্ষা নিতে হবে। সেটা বিসিএসের মতো না হয়ে অনলাইনে ধারাবাহিকভাবে পরীক্ষা হবে। এসব পরীক্ষার ফল একটা পুলে জমা হবে। সেই পুলের ওপরের দিকের প্রার্থীদের লিখিত, মৌখিক ও সাইকোলজিক্যাল পরীক্ষা নিয়ে নিয়োগ দিতে হবে। কোনো বিসিএসের মাধ্যমে যদি দুই হাজার পদে নিয়োগ দেয়া হয় সর্বোচ্চ পাঁচ হাজার প্রার্থীর পরীক্ষা নিতে হবে। তাতে সবাই সুবিধা পাবে। নিয়োগ প্রক্রিয়াটা এমন করলে ছয় মাসের মধ্যে নিয়োগ দেয়া সম্ভব।

আমাদের নিয়োগ পদ্ধতি অনেক ধীরগতির। যুক্তরাজ্যে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান আছে, একজন বাংলাদেশি সেই প্রতিষ্ঠানটির মালিক। তারা বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানে লোক নিয়োগ করে দেয়। আমাদের দেশেও গার্ড, নিরাপত্তারক্ষী নিয়োগ দিতে আউটসোর্সিং কোম্পানি আছে। ওই কোম্পানিটিও সে রকম। আমাদের এখানেও নিয়োগের ক্ষেত্রে এ রকম কোম্পানি হওয়া উচিত।

নিয়োগ দিতে গিয়ে সেসব প্রতিষ্ঠানের কেউ যদি বেআইনি কাজ করে তবে তাদের শাস্তি দিতে হবে। এসব প্রতিষ্ঠান তৈরি করে নিয়োগের দায়িত্ব দিলে একটা বেসরকারি প্রতিষ্ঠান তৈরি হবে, আলাদা এক্সপারটাইজ তৈরি হবে। এতে করে নিয়োগ দ্রুত হয়ে যাবে। কারণ, তারা সবকিছু আগে থেকেই প্রস্তুত করে রাখে। বর্তমানে যেভাবে চাকরিপ্রার্থী বাড়ছে আমাদের এই পদ্ধতিতে যাওয়া দরকার, প্রাইভেট কোম্পানি তৈরিতে উৎসাহিত করা দরকার। তাহলে নিয়োগে এই জটিলতা থাকবে না।

নজরুল ইসলাম খান: সাবেক শিক্ষাসচিব এবং বর্তমান চেয়ারম্যান, ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস লিমিটেড।

বিসিএসের নিয়োগ প্রক্রিয়া ছয় মাসে সম্পন্ন করা উচিত

ছবি: সংগৃহীত

সরকারের গুরুত্বপূর্ণ পদগুলো বেশি ফাঁকা থাকলে অবশ্যই সেবা দিতে অসুবিধা তৈরি হয়। তবে কত শতাংশ পদ খালি আছে সেটা দেখতে হবে। স্বাভাবিকভাবে কিছু পদ সংরক্ষণ করা হয় কেউ প্রশিক্ষণে যাবে, অসুস্থ হবে এসব বিষয় মাথায় রেখে। তবে ১০ শতাংশের বেশি পদ ফাঁকা থাকলে কাজে অসুবিধা হয়, এটা থাকা মোটেও উচিত নয়।

বিসিএসের নিয়োগ প্রক্রিয়া ছয় মাসের মধ্যে সম্পন্ন উচিত। প্রয়োজনে এটিকে ইলেকট্রনিক করা উচিত। পরীক্ষার একটা বড় অংশ অনলাইনে নিতে হবে। অনলাইন পরীক্ষার মাধ্যমে প্রার্থী বাছাই করে নিয়ে অল্পসংখ্যক প্রার্থীর সশরীরে পরীক্ষা নিতে হবে। এর পাশাপাশি একই প্রার্থীকে দুই বারের বেশি পরীক্ষায় অংশ নিতে দেয়া উচিত নয়। প্রথমবার অংশ নিয়ে হয়তো অনেকে শারীরিক অসুস্থতা, যাতায়াতের অসুবিধা বা পদ্ধতি বুঝতে না পারায় চাকরি নাও পেতে পারে। কিন্তু চার-পাঁচবার পরীক্ষায় অংশ নিতে দিলে তারা বুঝে ফেলে কোন ধরনের প্রশ্নপত্র পরীক্ষায় আসে। সে কারণে সব চাকরির পরীক্ষায় দুই বারের বেশি সুযোগ দেয়া ঠিক না। এতে করে বাছাইটা ভালো হয়। মেধাবীরা সুযোগ পায়। আবার আমাদের তো প্রশ্নপত্র প্রণয়নের বিশেষজ্ঞেরও অভাব রয়েছে। সেনাবাহিনীতে যেভাবে নেয়া হয় সেভাবে চাকরিপ্রার্থীদের মানসিক পরীক্ষা নেয়া উচিত।

আমি মনে করি, অনলাইনে পরীক্ষা নিতে হবে। সেটা বিসিএসের মতো না হয়ে অনলাইনে ধারাবাহিকভাবে পরীক্ষা হবে। এসব পরীক্ষার ফল একটা পুলে জমা হবে। সেই পুলের ওপরের দিকের প্রার্থীদের লিখিত, মৌখিক ও সাইকোলজিক্যাল পরীক্ষা নিয়ে নিয়োগ দিতে হবে। কোনো বিসিএসের মাধ্যমে যদি দুই হাজার পদে নিয়োগ দেয়া হয় সর্বোচ্চ পাঁচ হাজার প্রার্থীর পরীক্ষা নিতে হবে। তাতে সবাই সুবিধা পাবে। নিয়োগ প্রক্রিয়াটা এমন করলে ছয় মাসের মধ্যে নিয়োগ দেয়া সম্ভব।

আমাদের নিয়োগ পদ্ধতি অনেক ধীরগতির। যুক্তরাজ্যে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান আছে, একজন বাংলাদেশি সেই প্রতিষ্ঠানটির মালিক। তারা বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানে লোক নিয়োগ করে দেয়। আমাদের দেশেও গার্ড, নিরাপত্তারক্ষী নিয়োগ দিতে আউটসোর্সিং কোম্পানি আছে। ওই কোম্পানিটিও সে রকম। আমাদের এখানেও নিয়োগের ক্ষেত্রে এ রকম কোম্পানি হওয়া উচিত।

নিয়োগ দিতে গিয়ে সেসব প্রতিষ্ঠানের কেউ যদি বেআইনি কাজ করে তবে তাদের শাস্তি দিতে হবে। এসব প্রতিষ্ঠান তৈরি করে নিয়োগের দায়িত্ব দিলে একটা বেসরকারি প্রতিষ্ঠান তৈরি হবে, আলাদা এক্সপারটাইজ তৈরি হবে। এতে করে নিয়োগ দ্রুত হয়ে যাবে। কারণ, তারা সবকিছু আগে থেকেই প্রস্তুত করে রাখে। বর্তমানে যেভাবে চাকরিপ্রার্থী বাড়ছে আমাদের এই পদ্ধতিতে যাওয়া দরকার, প্রাইভেট কোম্পানি তৈরিতে উৎসাহিত করা দরকার। তাহলে নিয়োগে এই জটিলতা থাকবে না।

নজরুল ইসলাম খান: সাবেক শিক্ষাসচিব এবং বর্তমান চেয়ারম্যান, ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস লিমিটেড।