মাদক কারবারিদের ভুল টার্গেটের বলি ফারদিন

ইমন রহমান

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী ফারদিন নূর পরশ (২৩) মাদক কারবারিদের ভুল টার্গেটের বলি হয়েছেন বলে জানিয়েছে তদন্ত সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল সূত্র।

সূত্র জানায়, নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার কায়েতপাড়া ইউনিয়নের চনপাড়া বস্তিতে তাকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সোর্স ভেবে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে ফারদিনকে। হত্যাকাণ্ডে বস্তির ১০ থেকে ১২ মাদক কারবারি সরাসরি অংশ নিয়েছে। তাদের প্রায় সবাইকে আটকের পর হত্যার কারণসহ নানা চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছে তদন্তকারী পুলিশের একটি সংস্থা। দুই-এক দিনের মধ্যে সংবাদ সম্মেলন করে বিস্তারিত জানাবে ওই সংস্থাটি।

তবে ফারদিন কেন ওই বস্তিতে গেলেন, কে তাকে নিয়ে গেছে বা কোনো ফাঁদ পেতে নিয়েছে কিনা এ বিষয়ে দেশ রূপান্তরকে নিশ্চিত করেনি কোনো তদন্তকারী সংস্থা। এছাড়া ফারদিনের মাদক সেবনের কোনো তথ্য পায়নি তদন্তকারী পুলিশের কোনো সংস্থাই।

জানতে চাইলে তদন্তকারী একটি সংস্থার গোয়েন্দা শাখার শীর্ষ পর্যায়ের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে সোমবার (১৪ নভেম্বর) রাতে দেশ রূপান্তরকে বলেন, ফারদিনকে যে চনপাড়া বস্তিতেই হত্যা করা হয়েছে সে বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া গেছে। গত ৪ নভেম্বর রাত দুইটা থেকে আড়াইটার মধ্যে তাকে হত্যা করা হয়। ফারদিন মাদক কারবারিদের ভুল টার্গেটের শিকার হয়েছেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সোর্স ভেবে বেধড়ক পিটানোর পর মৃত্যু হয় তার। পরে লাশ ফেলে দেওয়া হয় শীতলক্ষ্যা নদীতে। পুরো কিলিং মিশন ও লাশ গুমের ঘটনায় মোট ১০ থেকে ১২ জন অংশ নিয়েছিল যাদের সবাকেই আটক করা হয়েছে। তাদের সার্বিক বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

সোমবার সকালে বুয়েট শহীদ মিনারের সামনে বুয়েট শিক্ষার্থীদের আয়োজিত এক মানববন্ধনে ফারদিনের বাবা কাজী নূর উদ্দীন রানা বলেছেন, বিভিন্ন গণমাধ্যমে ফারদিনকে নিয়ে মাদক সম্পৃক্ততার সংবাদ প্রকাশ হচ্ছে। একটা ছেলে যে বুয়েটে ডিবেটিং করে, ইন্টারন্যাশনাল প্রতিযোগিতায় যাবে সে কীভাবে ফেনসিডিল আসক্ত হবে? যারা ফেনসিডিল সেবন করে তারা কী ডিবেট করার অবস্থায় থাকে? তাদের দ্বারা কী ইন্টারন্যাশনাল প্রতিযোগিতা করা সম্ভব বলে প্রশ্ন ছুড়ে দেন।

ফারদিন হত্যাকাণ্ড তদন্তের মূল দায়িত্বে আছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। ফারদিন হত্যায় গ্রেপ্তার বান্ধবী আমাতুল্লাহ বুশরা এখনো ডিবির রিমান্ডে রয়েছে। এছাড়া ছায়া তদন্ত করছে অন্যান্য সংস্থাও। ডিবির তদন্তকারী কার্মকর্তারা জানান, তদন্ত চলমান আছে। বুশরাকে চতুর্থ দিনের মতো জিজ্ঞাসাবাদ করেও হত্যাকাণ্ডে তার সম্পৃক্ততার কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

তদন্ত সংস্থা সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার রাতে বস্তির চিহ্নিত মাদক কারবারি রায়হানের বাড়ির কাছে ঘটে ফারদিন হত্যাকাণ্ড। সেখান থেকে একটি সাদা রংয়ের প্রাইভেটকারে লাশ তুলে নিয়ে শীতলক্ষ্যা নদীতে ফেলে দেওয়া হয়। রায়হানকে বরিশাল থেকে আটক করলেও তিনসহ অন্য আটকদের বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেয়নি তদন্তকারী কোনো সংস্থা। হত্যাকাণ্ডে ১০ থেকে ১২ জন অংশ নিলেও ওই চক্রে রয়েছে প্রায় ২০০ মাদক কারবারি। তারা মাদক বিক্রির পাশাপাশি পুরো এলাকা পাহারা দেয়। বিশেষ করে রাতে তাদের পাহারা থাকে জোরালো। সন্দেহভাজন কেউ বস্তিতে ঢুকলে তার আর নিস্তার নেই বলেও তদন্তে উঠে আসে।

বস্তির বাসিন্দারা জানান, রায়হানের তিনতলা ওই বাড়িটি বস্তির ৪ নম্বর ওয়ার্ডে। ফারদিন হত্যাকাণ্ডে যাদের জড়িত থাকার কথা শোনা যাচ্ছে তাদের নেতৃত্ব দেয় বস্তির প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতারা। এদের ভয়ে বস্তির কেউ মুখ খোলেন না।

সোমবার সকাল থেকে দিনভর বস্তি এলাকায় ঘুরে সেখানকার অপরাধ জগতের নানা চিত্র দেখা গেছে। যেখানে খুন হন ফারদিন সেখানে বিকেল ৪টার দিকেও প্রকাশ্যে ৫ যুবককে মাদক বিক্রি করতে দেখা গেছে। বছরের পর বছর নানা অপরাধ সংঘটিত হলেও বস্তিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তেমন হস্তক্ষেপ থাকে না এমন দাবি বস্তিবাসীর। বিষয়টি নিয়ে সাধারণ মানুষ ক্ষুব্ধ। মাদক কারবারিদের নির্যাতনে অনেকে বস্তি ছেড়ে নিরাপদ স্থানে চলে যাচ্ছেন বলে জানান বাসিন্দারা।

এদিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, বুয়েট ছাত্র ফারদিন নূর পরশ হত্যার ঘটনায় এখনো সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্যপ্রমাণ মেলেনি।

উল্লেখ্য, বুয়েট শিক্ষার্থী ফারদিন ৪ নভেম্বর থেকে নিখোঁজ ছিলেন। পরদিন রাজধানীর রামপুরা থানায় নিখোঁজের সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন তার বাবা কাজী নূরউদ্দিন রানা। ৭ নভেম্বর সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জের শীতলক্ষ্যা নদী থেকে ফারদিনের মরদেহ উদ্ধার করে নৌ-পুলিশ। ৯ নভেম্বর রাতে ফারদিনের বান্ধবী বুশরাসহ অজ্ঞাতদের আসামি করে ‘হত্যা করে লাশ গুম’ করার অভিযোগে রামপুরা থানায় মামলা করেন ফারদিনের বাবা। সেই মামলায় গ্রেপ্তার হন বুশরা। তিনি ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কাছে রিমান্ডে আছেন। তবে ঘটনার সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়নি বলে জানায় ডিবি।

মাদক কারবারিদের ভুল টার্গেটের বলি ফারদিন

ইমন রহমান

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী ফারদিন নূর পরশ (২৩) মাদক কারবারিদের ভুল টার্গেটের বলি হয়েছেন বলে জানিয়েছে তদন্ত সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল সূত্র।

সূত্র জানায়, নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার কায়েতপাড়া ইউনিয়নের চনপাড়া বস্তিতে তাকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সোর্স ভেবে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে ফারদিনকে। হত্যাকাণ্ডে বস্তির ১০ থেকে ১২ মাদক কারবারি সরাসরি অংশ নিয়েছে। তাদের প্রায় সবাইকে আটকের পর হত্যার কারণসহ নানা চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছে তদন্তকারী পুলিশের একটি সংস্থা। দুই-এক দিনের মধ্যে সংবাদ সম্মেলন করে বিস্তারিত জানাবে ওই সংস্থাটি।

তবে ফারদিন কেন ওই বস্তিতে গেলেন, কে তাকে নিয়ে গেছে বা কোনো ফাঁদ পেতে নিয়েছে কিনা এ বিষয়ে দেশ রূপান্তরকে নিশ্চিত করেনি কোনো তদন্তকারী সংস্থা। এছাড়া ফারদিনের মাদক সেবনের কোনো তথ্য পায়নি তদন্তকারী পুলিশের কোনো সংস্থাই।

জানতে চাইলে তদন্তকারী একটি সংস্থার গোয়েন্দা শাখার শীর্ষ পর্যায়ের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে সোমবার (১৪ নভেম্বর) রাতে দেশ রূপান্তরকে বলেন, ফারদিনকে যে চনপাড়া বস্তিতেই হত্যা করা হয়েছে সে বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া গেছে। গত ৪ নভেম্বর রাত দুইটা থেকে আড়াইটার মধ্যে তাকে হত্যা করা হয়। ফারদিন মাদক কারবারিদের ভুল টার্গেটের শিকার হয়েছেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সোর্স ভেবে বেধড়ক পিটানোর পর মৃত্যু হয় তার। পরে লাশ ফেলে দেওয়া হয় শীতলক্ষ্যা নদীতে। পুরো কিলিং মিশন ও লাশ গুমের ঘটনায় মোট ১০ থেকে ১২ জন অংশ নিয়েছিল যাদের সবাকেই আটক করা হয়েছে। তাদের সার্বিক বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

সোমবার সকালে বুয়েট শহীদ মিনারের সামনে বুয়েট শিক্ষার্থীদের আয়োজিত এক মানববন্ধনে ফারদিনের বাবা কাজী নূর উদ্দীন রানা বলেছেন, বিভিন্ন গণমাধ্যমে ফারদিনকে নিয়ে মাদক সম্পৃক্ততার সংবাদ প্রকাশ হচ্ছে। একটা ছেলে যে বুয়েটে ডিবেটিং করে, ইন্টারন্যাশনাল প্রতিযোগিতায় যাবে সে কীভাবে ফেনসিডিল আসক্ত হবে? যারা ফেনসিডিল সেবন করে তারা কী ডিবেট করার অবস্থায় থাকে? তাদের দ্বারা কী ইন্টারন্যাশনাল প্রতিযোগিতা করা সম্ভব বলে প্রশ্ন ছুড়ে দেন।

ফারদিন হত্যাকাণ্ড তদন্তের মূল দায়িত্বে আছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। ফারদিন হত্যায় গ্রেপ্তার বান্ধবী আমাতুল্লাহ বুশরা এখনো ডিবির রিমান্ডে রয়েছে। এছাড়া ছায়া তদন্ত করছে অন্যান্য সংস্থাও। ডিবির তদন্তকারী কার্মকর্তারা জানান, তদন্ত চলমান আছে। বুশরাকে চতুর্থ দিনের মতো জিজ্ঞাসাবাদ করেও হত্যাকাণ্ডে তার সম্পৃক্ততার কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

তদন্ত সংস্থা সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার রাতে বস্তির চিহ্নিত মাদক কারবারি রায়হানের বাড়ির কাছে ঘটে ফারদিন হত্যাকাণ্ড। সেখান থেকে একটি সাদা রংয়ের প্রাইভেটকারে লাশ তুলে নিয়ে শীতলক্ষ্যা নদীতে ফেলে দেওয়া হয়। রায়হানকে বরিশাল থেকে আটক করলেও তিনসহ অন্য আটকদের বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেয়নি তদন্তকারী কোনো সংস্থা। হত্যাকাণ্ডে ১০ থেকে ১২ জন অংশ নিলেও ওই চক্রে রয়েছে প্রায় ২০০ মাদক কারবারি। তারা মাদক বিক্রির পাশাপাশি পুরো এলাকা পাহারা দেয়। বিশেষ করে রাতে তাদের পাহারা থাকে জোরালো। সন্দেহভাজন কেউ বস্তিতে ঢুকলে তার আর নিস্তার নেই বলেও তদন্তে উঠে আসে।

বস্তির বাসিন্দারা জানান, রায়হানের তিনতলা ওই বাড়িটি বস্তির ৪ নম্বর ওয়ার্ডে। ফারদিন হত্যাকাণ্ডে যাদের জড়িত থাকার কথা শোনা যাচ্ছে তাদের নেতৃত্ব দেয় বস্তির প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতারা। এদের ভয়ে বস্তির কেউ মুখ খোলেন না।

সোমবার সকাল থেকে দিনভর বস্তি এলাকায় ঘুরে সেখানকার অপরাধ জগতের নানা চিত্র দেখা গেছে। যেখানে খুন হন ফারদিন সেখানে বিকেল ৪টার দিকেও প্রকাশ্যে ৫ যুবককে মাদক বিক্রি করতে দেখা গেছে। বছরের পর বছর নানা অপরাধ সংঘটিত হলেও বস্তিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তেমন হস্তক্ষেপ থাকে না এমন দাবি বস্তিবাসীর। বিষয়টি নিয়ে সাধারণ মানুষ ক্ষুব্ধ। মাদক কারবারিদের নির্যাতনে অনেকে বস্তি ছেড়ে নিরাপদ স্থানে চলে যাচ্ছেন বলে জানান বাসিন্দারা।

এদিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, বুয়েট ছাত্র ফারদিন নূর পরশ হত্যার ঘটনায় এখনো সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্যপ্রমাণ মেলেনি।

উল্লেখ্য, বুয়েট শিক্ষার্থী ফারদিন ৪ নভেম্বর থেকে নিখোঁজ ছিলেন। পরদিন রাজধানীর রামপুরা থানায় নিখোঁজের সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন তার বাবা কাজী নূরউদ্দিন রানা। ৭ নভেম্বর সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জের শীতলক্ষ্যা নদী থেকে ফারদিনের মরদেহ উদ্ধার করে নৌ-পুলিশ। ৯ নভেম্বর রাতে ফারদিনের বান্ধবী বুশরাসহ অজ্ঞাতদের আসামি করে ‘হত্যা করে লাশ গুম’ করার অভিযোগে রামপুরা থানায় মামলা করেন ফারদিনের বাবা। সেই মামলায় গ্রেপ্তার হন বুশরা। তিনি ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কাছে রিমান্ডে আছেন। তবে ঘটনার সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়নি বলে জানায় ডিবি।