রাজশাহী বোর্ডে এইচএসসিতে এক বছরে ঝরেছে ২০% শিক্ষার্থী

রাজশাহী ব্যুরো

এইচএসসি পরীক্ষা কেন্দ্র। ছবি: সংগৃহীত

সারা দেশে রোববার শুরু হচ্ছে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা। এবার রাজশাহী বোর্ডের অধীনে বিভাগের আট জেলায় এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেবেন ১ লাখ ২৯ হাজার ২৫ শিক্ষার্থী। এতে অংশ নিতে নিয়মিত হিসেবে পরীক্ষার জন্য ফরম পূরণ করেছেন ১ লাখ ২৪ হাজার ৯০৯ জন। তবে তাদের সঙ্গে প্রথম বর্ষে নিবন্ধন করা শিক্ষার্থীর প্রায় ২০ শতাংশই ঝরে গেছে।

প্রথম বর্ষে নিবন্ধন করা ১ লাখ ৫৫ হাজার ১৬৮ শিক্ষার্থীর মধ্যে ৩০ হাজার ২৫৯ জন এইচএসসি পরীক্ষার জন্য ফরম পূরণ করেনি। এতে এক বছরের ব্যবধানে রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডে শিক্ষার্থী ঝরেছে প্রায় ১৯ দশমিক ৫০ শতাংশ।

রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড কর্তৃপক্ষ জানায়, করোনা মহামারির প্রকোপ, বাল্যবিবাহ, কর্মক্ষেত্রে ঢুকে পড়া, নারীদের প্রতি সমাজের নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি এখনো পরিবর্তন না হওয়ার কারণে শিক্ষার্থী ঝরে যাওয়ার ঘটনা ঘটতে পারে। তবে প্রকৃত কারণ উদ্‌ঘাটনে অনুসন্ধান দরকার।

রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক আরিফুল ইসলাম জানান, ঝরে যাওয়া এই শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছাত্রীর সংখ্যা ১৭ হাজার ৭১৫ জন। বাকি ১২ হাজার ৫৪৪ জন ছাত্র।

আরিফুল ইসলাম বলেন, বিভাগের আট জেলায় চলতি বছর এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিতে যাওয়া ১ লাখ ২৯ হাজার ২৫ শিক্ষার্থীর মধ্যে ছাত্র ৬৮ হাজার ৩৬ এবং ছাত্রী ৬০ হাজার ৯৮৯ জন। এর মধ্যে বিজ্ঞান শাখায় ৩৪ হাজার ৬ জন, মানবিকে ৮০ হাজার ৯৬৪ এবং ব্যবসায় শিক্ষা শাখায় ১৩ হাজার ৩৮৭ শিক্ষার্থী অংশ নেবেন।

এর আগে এসএসসি পরীক্ষাতেও ঝরে যাওয়ায় ২৯ হাজার ৮৮০ শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেননি।

শিক্ষার্থী হ্রাস পাওয়ার বিষয়ে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক আরিফুল ইসলাম বলেন, করোনা, বাল্যবিবাহ ও কর্মক্ষেত্রে ঢুকে পড়ার কারণে শিক্ষার্থী ঝরে যাওয়ার ঘটনা ঘটতে পারে। আবার কিছু শিক্ষার্থী এমনিতেও অনিয়মিত থাকে। ফলে প্রতিবারই শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমে। এবার করোনার প্রভাবের কারণে হয়তো বেশি কমেছে।

পরীক্ষার্থী কমার বিষয়ে রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক হাবিবুর রহমান বলেন, এইচএসসি প্রথম বর্ষে নিবন্ধন করলেও অনেক শিক্ষার্থী পরবর্তী সময়ে তাদের ভর্তি বাতিল করে ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিং, নার্সিং ও প্যারামেডিকেল ডিপ্লোমাসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চলে যায়। এ ছাড়া কেউ কেউ বিদেশেও চলে যায়। আবার বাল্যবিবাহের বিষয়টিও একটা কারণ হতে পারে।

হাবিবুর রহমান বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় শিক্ষার হার অনেকটা বাড়লেও নারীদের প্রতি সমাজ ও পরিবারের নেতিবাচক মনোভাব এখনো পুরোপুরি পরিবর্তন হয়নি। ফলে নারীদের দ্রুতই বিয়ে দেয়া হয়। এতে পরীক্ষার জন্য ফরম পূরণে শিক্ষার্থী কম হতে পারে। তবে প্রকৃত কারণ জানতে কলেজগুলোতে অনুসন্ধান করা হবে।

এবার এইচএসসি পরীক্ষায় রাজশাহী বিভাগের আট জেলার ৭৫২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা ২০১টি কেন্দ্রে পরীক্ষা দেবে।

রাজশাহী বোর্ডে এইচএসসিতে এক বছরে ঝরেছে ২০% শিক্ষার্থী

রাজশাহী ব্যুরো

এইচএসসি পরীক্ষা কেন্দ্র। ছবি: সংগৃহীত

সারা দেশে রোববার শুরু হচ্ছে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা। এবার রাজশাহী বোর্ডের অধীনে বিভাগের আট জেলায় এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেবেন ১ লাখ ২৯ হাজার ২৫ শিক্ষার্থী। এতে অংশ নিতে নিয়মিত হিসেবে পরীক্ষার জন্য ফরম পূরণ করেছেন ১ লাখ ২৪ হাজার ৯০৯ জন। তবে তাদের সঙ্গে প্রথম বর্ষে নিবন্ধন করা শিক্ষার্থীর প্রায় ২০ শতাংশই ঝরে গেছে।

প্রথম বর্ষে নিবন্ধন করা ১ লাখ ৫৫ হাজার ১৬৮ শিক্ষার্থীর মধ্যে ৩০ হাজার ২৫৯ জন এইচএসসি পরীক্ষার জন্য ফরম পূরণ করেনি। এতে এক বছরের ব্যবধানে রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডে শিক্ষার্থী ঝরেছে প্রায় ১৯ দশমিক ৫০ শতাংশ।

রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড কর্তৃপক্ষ জানায়, করোনা মহামারির প্রকোপ, বাল্যবিবাহ, কর্মক্ষেত্রে ঢুকে পড়া, নারীদের প্রতি সমাজের নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি এখনো পরিবর্তন না হওয়ার কারণে শিক্ষার্থী ঝরে যাওয়ার ঘটনা ঘটতে পারে। তবে প্রকৃত কারণ উদ্‌ঘাটনে অনুসন্ধান দরকার।

রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক আরিফুল ইসলাম জানান, ঝরে যাওয়া এই শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছাত্রীর সংখ্যা ১৭ হাজার ৭১৫ জন। বাকি ১২ হাজার ৫৪৪ জন ছাত্র।

আরিফুল ইসলাম বলেন, বিভাগের আট জেলায় চলতি বছর এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিতে যাওয়া ১ লাখ ২৯ হাজার ২৫ শিক্ষার্থীর মধ্যে ছাত্র ৬৮ হাজার ৩৬ এবং ছাত্রী ৬০ হাজার ৯৮৯ জন। এর মধ্যে বিজ্ঞান শাখায় ৩৪ হাজার ৬ জন, মানবিকে ৮০ হাজার ৯৬৪ এবং ব্যবসায় শিক্ষা শাখায় ১৩ হাজার ৩৮৭ শিক্ষার্থী অংশ নেবেন।

এর আগে এসএসসি পরীক্ষাতেও ঝরে যাওয়ায় ২৯ হাজার ৮৮০ শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেননি।

শিক্ষার্থী হ্রাস পাওয়ার বিষয়ে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক আরিফুল ইসলাম বলেন, করোনা, বাল্যবিবাহ ও কর্মক্ষেত্রে ঢুকে পড়ার কারণে শিক্ষার্থী ঝরে যাওয়ার ঘটনা ঘটতে পারে। আবার কিছু শিক্ষার্থী এমনিতেও অনিয়মিত থাকে। ফলে প্রতিবারই শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমে। এবার করোনার প্রভাবের কারণে হয়তো বেশি কমেছে।

পরীক্ষার্থী কমার বিষয়ে রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক হাবিবুর রহমান বলেন, এইচএসসি প্রথম বর্ষে নিবন্ধন করলেও অনেক শিক্ষার্থী পরবর্তী সময়ে তাদের ভর্তি বাতিল করে ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিং, নার্সিং ও প্যারামেডিকেল ডিপ্লোমাসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চলে যায়। এ ছাড়া কেউ কেউ বিদেশেও চলে যায়। আবার বাল্যবিবাহের বিষয়টিও একটা কারণ হতে পারে।

হাবিবুর রহমান বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় শিক্ষার হার অনেকটা বাড়লেও নারীদের প্রতি সমাজ ও পরিবারের নেতিবাচক মনোভাব এখনো পুরোপুরি পরিবর্তন হয়নি। ফলে নারীদের দ্রুতই বিয়ে দেয়া হয়। এতে পরীক্ষার জন্য ফরম পূরণে শিক্ষার্থী কম হতে পারে। তবে প্রকৃত কারণ জানতে কলেজগুলোতে অনুসন্ধান করা হবে।

এবার এইচএসসি পরীক্ষায় রাজশাহী বিভাগের আট জেলার ৭৫২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা ২০১টি কেন্দ্রে পরীক্ষা দেবে।